আকাশে কালো মেঘ

রাত তখন দশটা বাজে।আমি আমার ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরতে আসছি।ঘুরতে আসার একটা কারনও আছে।আজ আমার জন্মদিন।তো এজন্য ওদের সাথে ঘুরতে আসা।তখনই খেয়াল
করলাম মোবাইলটা অনেকক্ষন ধরে রিং হচ্ছে।পকেট থেকে
মোবাইল ফোনটা বের করে দেখি বাবা ফোন করেছে।ফোনটা
ধরে,

–‘কী হয়েছে আব্বু?এখন ফোন করলে?একটু পর তো আমি
বাসায় ফিরে আসতাম!

–‘না এমনিই একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসিছ।

▪একটু হকচকিয়ে বললাম”

–‘কেন?বাসায় কী কোনো সমস্যা হয়েছে?

–‘আরে না!তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।

▪খুশি হয়ে

–‘আমার জন্য !আচ্ছা সারপ্রাইজ টা কী?

–‘আগে তুই বাসায় আয়।তারপর বলছি।

▪একটু চন্ঝ্রল হয়ে,

–‘প্লিজ বলোনা, সারপ্রাইজটা কী?

–‘তোকে এখন বলে দিলে তো সারপ্রাইজটা আর সারপ্রাইজ
থাকলো না ।আগে তুই আয় তারপর বলবো?

–‘আচ্ছা ঠিক আছে আমি তাড়াতাড়ি বাসায় আসছি

–‘আচ্ছা।ঠিক আছে তাড়াতাড়ি আয়।

তারপর ফোনটা রেখে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম।বাসায় আসতে আসতে সাড়ে এগারোটা বেজে
গেলো।যখন বাসার গেট দিয়ে ঢুকতে যাবো তখন দেখি ভিতরে
অনেক গুলো গাড়ি রাখা।বুঝলাম না এতগুলো গাড়ি কোথেকে
আসলো।তারপর আর কিছু না ভেবে।বাসার ভিতরে ঢুকলাম।
ভিতরে ঢুকে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম
না।আমার সামনে আমার মা-বাবাকে মুহূর্তের মধ্যে গুলি করে মেরে ফেললো ।আমি তো এ দৃশ্য দেখে নিস্তব্দ হয়ে গেছি। যখনই আরেকটা গুলি চললো ।সে গুলির শব্দ শুনে আমার হূশ
এলো।দেখি গুলি খেয়ে আমার ছোট বোনটা ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লো ।আর তখন-ই আমি কান্না করে ওদের মারতে যাবো তখনই ওদের দলের আরেকজন আমার বুকের উপর শুট করলো।আমি তো গুলি খেয়ে দেয়ালের সাথে বাড়ি খেলাম।
তারপর ওদের হাত থেকে বাচার জন্য দৌড়ে সিড়ি দিয়ে উপরে
উঠতে লাগলাম।ওরা আমার পিছন পিছন দোড়ৈ আসছে কিন্তু ধরতে পারছে না।তারপরওখান থেকে দৌড়ে ছাদে চলে আসলাম।চোখে এখনো ঝাপসা দেখছি।বুকে গুলি লেগেছে ।মনে হচ্ছে কেউ কলিজাটা ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে।ছাদের দরজাটা লাগিয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলাম।ছাদের দরজাটা ওরা অনেক জোড়ে জোড়ে ধাক্কাচ্ছে ।মনে হচ্ছে একটু পরেই ভেঙ্গে ফেলবে।তাই সময় নষ্ট না করে পকেট থেকে মোবাইল টা বের করলাম।তারপর তিপককে ফোন করলাম।প্রথম বার ফোন করলাম রিং হয়ে কেটে গেল।দ্বিতীয়বার আবার ফোন করলাম দু-বার রিং হওয়ার পর ফোনটা ধরলো।ফোন ধরে ও বলতেছে-

ঘুম ঘুম কন্ঠে ইতস্তত হয়ে বললো

–‘ আরমান তু-তুই এতো রাতে ফোন করেছিস।

কান্না করে,

–‘দোস্ত আমার সব শেষ হয়ে গেছে।ওরা আমার পরিবারের
সবাইকে মেরে ফেলছে।

একটু জোড়ে চিল্লিয়ে

–‘কী বলছিস এগুলো।ওরা কারা ?আর কে মেরেছে

–‘আমার

আর কিছুই বলতে পারলাম না।তখন পিছন থেকে আরেকটা মাথার মধ্যে গুলি করলো।আমার শরীরটা আস্তে আস্তে নেতিয়ে পড়লো। শরীরে যেনো আর কোনো শক্তি-ই পাচ্ছিনা।তারপর যখন জ্ঞান ফিরলো নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিস্কার করলাম। আমার সাথে কী হয়েছিল । আমার জ্ঞান ফেরার পর তিপককে তাই বলছিলাম।তারপর ওরা আমাকে বললো আমার নাকি দীর্ঘ এক মাস পর জ্ঞান ফিরলো।এই এক মাস আমি নাকি
কোমায় ছিলাম।একটু পর আমার কেবিনে ডাক্তার এলো।কেবিনে এসে ডাক্তার বলছে,

–‘ আপনার কপাল অনেক ভালো ।অন্য কেউ হলে তো কম-
পক্ষে এক বছর কোমায় থাকতো।আমার ডাক্তার ক্যারিয়ারে
আমি এরকম প্রেসেন্ট দেখি নাই।

তারপর আরও কিছু খোজখবর এবং কী করে এগুলো হলো
জিগ্যাসা করে চলে গেল। যদি ও কি-ভাবে কি হয়েছে আমি
কিছুই বলে নাই। তারপর ওখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে প্রায়
সুস্থ হয়ে গেলাম। আসলেই হয়তো আমার তকদির ভালো।
না হলে তো আর এতো তাড়াতাড়ি সুস্থ হতাম না। হয়তো
সৃষ্টি-কর্তা ও চায় আমি আমার মা-বাবা এবং বোনের খুনের
প্রতিশোধ নেই।তারপর একদিন আমাকে হাসপাতাল থেকে
রিলিজ করে দিল। তিপক আসলো আমাকে নিতে।তারপর
তিপককে বললাম-;

–‘আচ্ছা আমাদের বাড়িতে কী পুলিশ আসছিল।আমার বাবা-
মা ,বোন কে বা কারা খুন করতে পারে তার ব্যাপারে জীগ্যাসা
করতে।

হতভম্ব হয়ে ও বললো,

–‘তুই এতো সহজ ভাবে ব্যাপার গুলো কীভাবে নিচ্ছিস।আমার
কাছে তো ব্যাপার-টা একটু গোলাসে লাগছে।কী হয়েছে
বলতো

শান্ত হয়ে নরম সূরে বললাম,

–‘আরে কী হবে? কীছুই হয়নি।যা হয়েছে তা তো আমাদের
তকদিরের উপরই তো মেনে নিতে হবে।এতে আবার –
গোলাসা হওয়ার কী আছে।

–“হ্যা ! কিছু না হলেই ভালো।আচ্ছা চল

তারপর হাসপাতাল থেকে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।বাড়ির
দিকে যাচ্ছি আর ভাবছি,আমি তো এই খুনের প্রতিশোধ নিবোই
যে করেই হোক আমার মা-বাবার খুনিদের খুজে বের করতে হবে।কিন্তু তার আগে আমার মা-বাবাকে কী জন্য খুন করা হয়েছে সেটা জানতে হবে।এখন আমাকে একটা চাকরি খুজতে
হবে।এসব ভাবতে ভাবতে বাড়িতে পৌছে গেলাম।তারপর বাড়ির
ভিতর ঢুকলাম।ভিতরে ঢুকে দেখি বাড়িটা এই কয় দিনে বাড়িটা
আপরিষ্কার হয়ে গেছে। রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে।তারপর ওখান থেকে উপরে চলে আসলাম ।তিপক ও আসলো।
তারপর জানালার কাছে গেলাম।

–‘জানিস প্রতিদিন সকালে মা আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতো। তারপর আমি এই জানালার পাশে এসে ।বাইরের সৌন্দর্য উপভোগ করতাম।পাখির কিচির মিচির শব্দ সাথে এক মগ কফি দিয়ে সকাল বেলাটা খুব ভালো-ভাবে কেটে যেতো।আমার মনে হয়না আমার জীবনে সুখ নামক কোনো শব্দ আছে।আমার জীবনটা পুরোই অন্ধকার।পিছনের দিন-গুলোর কথা মনে পড়লে এখনো মনের অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে।যদিও মা-বাবার সাথে যতক্ষন থেকেছি ততক্ষন আর পিছনের ওই কালো স্বপ্নের কথা মনে পড়েনি।কিন্তু প্রত্যেকদিন রাতে অন্ধকার দিনগুলো আমাকে গ্রাস করে ফেলতো।না চাইতেও আগের সব স্মৃতি মনে পড়ে যেতো।

এগুলো বলেই কেদে দিলাম।আবার কিছু একটা ভেবে চোখটা মুছে নিলাম।ছেলেদের যে কাদতে নেই।কারন প্রত্যেকের নিজের বুকের গোপনীয়তায় কিছু পোড়া ক্ষত লুকিয়ে আছে, কিছু অসম্পূর্ণ নির্মাণ, ভাঙা ঘর, প্রত্যেকের নিজস্ব নিদ্রাহীন রাত আছে যা কোমল অনিচ্ছার বাগানে চিরতরে ভাঙা পেরেকের মতো রেখে যেতে হয় যা কেবল আড়াল করতেই সুখ, গোপনে জ্বলুন।তারপর পিছন থেকে তিপক আমার কাধে হাত রেখে বললো-

–‘কেনো শুধু শুধু পিছনের কথা মনে করে দুঃখ পাশ।

হতাশ কন্ঠে’ ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললাম-

–‘দুনিয়াটা খুবই অদ্ভূত ।নারে? কেউ কারো ভালো চায় না। সবাই চায় কে কাকে ঠকিয়ে সামনে যাবে সুখ-নামক শব্দ-টাকে
ছুতে ।আচ্ছা তিপক বলতো সুখ কী এতো সহজেই মানুষের হাতে ধরা দেয়।

–‘তুই কী শুরু করেছিস বলতো ।কেন শুধু শুধু ওর কথা মনে করছিস। ও যদি তোর ভাগ্যে থাকে তাহলে কেউ তোদের কে আলাদা করতে পারবেনা। তবে এর মাঝে তোকে হয়তো একটু
কষ্ট করতে হবে।কারন ও তো আর জানে না তুই কী-জন্য ওকে ছেড়ে চলে এসেছিস

এতক্ষন ধরে ওর কথা গুলো শুনলাম। ওতো ঠিকই বলছে যে মানহা কিছুই জানেনা।
আস্তে আস্তে বিকেল পেরিয়ে রাত হলো।তিপক আজকে ওর বাসায় যায়নি।আমার এখানেই আজকে থাকবে।ও একটু বাইরে
গেছে হয়তো একটু পরেই ফিরে আসবে।ওর অপেক্ষায় বসে আছি আর ভাবছি জীবনটা কী থেকে কী হয়ে গেল। কাউকে প্রচন্ডভাবে ভালবাসার মধ্যে এক ধরনের দুর্বলতা আছে নিজেকে তখন তুচ্ছ এবং সামান্য মনে হয়এই ব্যাপারটা নিজেকে ছোট করে দেয়।কিছু লোক সত্যই খুব অসহায়
তাদের পছন্দ-অপছন্দ এবং বেদনা বলতে কেউ নেই
তাদের কিছু অব্যক্ত কথা মনের গভীরে থেকে যায়
এবং কিছু স্মৃতি – এক সময় দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়। আজ যেমন আমার ওই রকম-ই একটা অনুভুতি আসছে।রাত বাজে
এখন প্রায় বারোটা।চোখে ঘুম নেই ।আমার সব অন্ধকার গুলো
এই মধ্যরাতেই ছেয়ে গেছে। কিছু কিছু সময় খুব জোরে গলা ফাটিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করে, ঠিক তার পরের মুহূর্তে মনে পড়ে যায় আমি তো ছেলে, আমার যে কাঁদতে নেই!!!”কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই।তিপক গতকাল রাতে ফোন করে বলেছিল ও নাকি আসতে পারবেনা।ওর নাকি কোন আত্বীয় মারা গেছে।তাই আসতে পারবেনা।তাই আমি ও কিছু না বলে ফোনটা রেখে দেই।তারপর ফ্রেশ হয়ে বাইরে থেকে নাস্তা করে
আবার বাড়িতে চলে আসি।বাড়িতে এসে ঘুমাতে যাই কিন্তু ঘুমতো আর আসে না চোখটা বন্ধ করলেই মা-বাবার মুখটা বেশে উঠে।তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজে ও জানিনা।
ঘুম ভাঙলো কলিং বেলের শব্দে।তারপর দরজা খুলে যাকে দেখলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।

চলবে,,,,,

#গল্প:-আকাশেকালোমেঘ
#লেখক:-আরমান
#সূচনা পর্ব

কী বলবো কিছুই বলার নেই এটাই আমার প্রথম গল্প।যতটুকু পেড়েছি সাজিয়ে লিখতে চেষ্টা করেছি।বাকি টুকু আপনাদের হাতে।আপনারা কীভাবে গ্রহন করবেন সেটা আপনাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top