রুশো – সূলোচনা

– হ্যালো সূলোচনা।
– আমি সূলোচনার বাবা। সূলোচনা বাসায় নেই। কি বলার আমাকে বলো।
– আমি জানি সূলোচনা বাসাতেই আছে, এই মুহুর্তে বাসার ছাদে মন খারাপ করে বসে আছে।
– আশ্চর্য তো! তুমি কিভাবে জানো?
– আপনাকে তা আর বুঝতে হবেনা। সূলোচনাকে দেয়া যাবে?
– আমাকে বলা যাবেনা মানে? তুমি বেয়াদবি করে ফেলছো রুশো।
– রাখলাম। এই মুহুর্তে সূলোচনার সাথে কথা বলা প্রয়োজন, আপনার সাথে নয়।
– হ্যালো, হ্যালো…
(রুশো টেলিফোন রেখে দিয়ে হাতে কলম নিলো। ব্যাগে আজ কোনো কাগজ নেই। দোকানীর কাছে চেয়ে নিলো একটা সাদা কাগজ। লেখা শুরু করলো সূলোচনার উদ্দেশ্য)

সূলোচনা,
মন খারাপ করে আছো বেশ! আজ মন খারাপের-ই দিন। তাই বলে যার জন্য মন খারাপ করে আছো তাকে ভুলে গেলে চলবে? বিকালে টিএসসি তে থাকবো। চলে এসো। আজ একসাথে হাটবো, ওনাকে একবার দেখে আসতে হবে।

লিখেছি – “রুশো সাহেব”

চিঠিটা লিখে পকেটে নিলো, সূলোচনাকে পাঠাবে না, এমনিতেই লিখলো। মন চেয়েছে লিখতে। তবে সূলোচনার সাথে একটু কথা বললে আজকের দিনটাকে আরো ভারাক্রান্ত করে তোলা যেতো! আবার টেলিফোন হাতে নিয়ে সূলোচনার বাসায় কল দিলো। এবার সূলোচনাই ধরেছে ওপাশ থেকে…

– হ্যালো।
– রুশো বলছো?
– হ্যাঁ। কেমন আছো?
– তুমি জানো আজ কত তারিখ?
– তোমার ও আজ মন খারাপ?
– মন খারাপ কিনা জানিনা! তবে মন ভালো নেই এতটুকু জানি।
– একটা অদ্ভুত ব্যাপার জানো সূলোচনা?
– তোমার সব-ই তো অদ্ভুত! বলো, শুনি…
– আজ শুধু তোমার আর আমার একার মন খারাপের দিন নয়। আজ সবার মন খারাপের দিন।
– অদ্ভুত কথা না, এটা-ই স্বাভাবিক। রুশো, তুমি দিন দিন ঘুলিয়ে যাচ্ছো কেন? অদ্ভুত আর স্বাভাবিক বুঝতে পারোনা?
– আজকের দিনটাতেই আমার সব গুলিয়ে যায়, নিজের অস্তিত্বটাই হারিয়ে ফেলি । আজ তার প্রয়ান দিবস, আজ আমার অস্তিত্বের সৃষ্টি করা জাদুকরের চন্দ্রকারিগরের নিকট চলে যাওয়ার অষ্টম বর্ষ….

7 thoughts on “রুশো – সূলোচনা”

  1. সূলোচনা তোমার ভাগ্যটাই অনেক ভালো যে তুমি একটা রুশো পেয়েছো।
    ভালো থেকো তোমারা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top