মিঃ রহমান ও গুপ্তচরের কারসাজি

চিঠিটা দেখার পর মুকুলের একটু অবাক লাগলো । এই ইন্টারনেট এর যুগে কে এভাবে চিঠি লিখলো? তাছাড়া চিঠিতে তেমন কিছু লেখা নেই শুধু নিচে লেখা এসো, পুরাতন বাড়ি, নয়াপল্টন ঢাকা। খামের উপর ঠিকানাও সেটাই দেওয়া। চিঠিটা তার অদ্ভুত লাগায় সে সেটি তার সহকর্মী মাসুদ ভাইকে দেখায়। তিনি রহস্যের সমাধান করতে ভালবাসেন। মাসুদ ভাইকে দেখানোর পর মাসুদ ভাই বলেন, এই চিঠিটি যে লিখেছে সে হয়তো মজা করার এটি লিখেছে নাহলে কোন ফাঁদ আছে। তুমি একটা কাজ করো চিঠিটাতে দেয়া ঠিকানাতে যাও। আর গিয়ে দেখো সেখানে কি হয়েছে.
পরদিন….
মুকুল সেখানে যেতে বাসা থেকে বের হবে, তখন সে ভাবে যে সেই ঠিকানাতে কিভাবে যাবে? সে উবার অ্যাপ এ সার্চ করলে দেখতে পারে সেই ঠিকানা আছে! তারপর সে উবার কল করে সেখানে যায়। গিয়ে সে আগে থেকেই মাসুদ ভাইয়ের কথা মনে রাখে, তিনি বলেছেন যেনো সে সাবধানে থাকে। একারণে সে সরাসরি সেই বাড়ির রাস্তায় না যেয়ে সেই বাড়ির আগের রাস্তায় নামে। তারপর সে এগিয়ে দেখে সেখানে একটি বিশাল ফ্লাট! সে অবাক হয়ে যায়! সে ভাবে যে সে ভেবেছিল কিনা রহস্য, আর এসে দেখে এটা কোন রহস্যই না! তারপরও সে ধীরে ধীরে দরজার সামনে যায় , গিয়ে দেখে দরজায় গার্ড আছে। সে গার্ড এর কাছে অপরে যাওয়ার জন্য অনুমতি চায়। গার্ড বলে কয় তলা যাবেন? মুকুল তা তো জানি না তবে আমাকে যেতে হবে। গার্ড বলে এভাবে বললে তো হবে না , আচ্ছা আপনি কার সাথে দেখা করতে এসেছেন? মুকুল বলল, তাও তো ঠিক করে জানি না!। গার্ড বলে আজব মানুষ তো আপনি? কয় তালা যাবেন তা জানেন না আবার কার কাছে এসেছেন তাও জানেন না! পাগল নাকি আপনি? মুকুল বলল৷, না পাগল হতে যাবো কেন, তারপর সে চিঠি টা দেখায়, আর ঘঠনা খুলে বলে। গার্ড দেখে বলে আচ্ছা আমি বাড়ির সকলকে ফোনে বলছি,
কিছুক্ষন পর….
গার্ড এসে বলল, আপনি মিঃ রহমানের কাছে এসেছেন। তিনি তো খুব ভাল মানুষ। এছড়াও তিনি একজন বিশব্বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং লেখক। ও আচ্ছা তাই? মুকুল বলল৷ আচ্ছা তিনি কি আমাকে উপরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন? গার্ড বলল হ্যাঁ দিয়েছেন, আপনি যেতে পারেন। আচ্ছা ওনার বাড়ি কয় তলায়? গার্ড বলল ১০ তলায় আর লিফটের ১১ তলায়।
১১ তলায় যাওয়ার পর….
রহমান সাহেবের বাসায় মুকুল কলিং বেল বাজায়। কলিং বেল দেয়ার কিছুক্ষন পর একজন ভদ্র মহিলাকে মুকুল দেখতে পায়।সে ভদ্র মহিলাকে জিজ্ঞেস করে রহমান স্যার বাসায় আছেন? ভদ্র মহিলা বললেন না তিনি এখন বাসায় নেই, বাজারে গিয়েছেন কিছুক্ষনে চলে আসবেন, আপনি তার ছাত্র নাকি? না না, আমি তার ছাত্র হতে যাবো কেন আমি তার চিঠি পেয়ে এখানে এসেছি। তারপর মুকুল চিঠিটা তাকে দেখায়। চিঠি দেখে তিনি বলেন ভেতরে আসুন তিনি আপনার কথা বলে গিয়েছেন আসুন আসুন।
ঘরের ভেতর যাওয়ার পর…
এখানে বসুন আমি আপনার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আসছি।
মুকুল বলল, আচ্ছা আপনি মিঃ রহমানের কি হোন? আমি? আমি মিঃ রহমানের মেয়ে। মুকুল বলল আপনার নাম কি? মেয়েটি বলে আয়শা। এর কিছুক্ষণ পর রহমান সাহেব চলে আসেন। আসার পর মুকুল তাকে সালাম দেয় এবং চিঠিটি দেখায়। তিনি বলেন তুমি এসেছো মুকুল! মুকুল এটা শুনে অবাক হয়ে যায়, বলে আপনি আমার নাম জানেন কিভাবে? বলছি বলছি আগে বসো ।
বসার পর,
শোন মুকুল তোমার বাবা আর আমি ছোট বেলা থেকে বন্ধু। আমাদের মধ্যে অনেক বন্ধুত্ব ছিল। তোমার বাবার সাথে আমার অনেক দিন কথা হয় না আসলে আমি বিদেশে পড়তে যাওয়ার পর থেকে তার সাথে আর কথা হয় নি। অনেকদিন পর গত বছর তোমার বাবার সাথে আমার দেখা হয় এবং সেখানে আমি তোমার কথা জানতে পারি। তারপর দেখি তুমি এক বিখ্যাত সাংবাদিক ও সাহসী! আমি তারপর তোমার কাছে এই চিঠিটা লিখি।মুকুল তখন বলে, আপনি ফোনে কথা না বলে চিঠি কেন লিখলেন? মিঃ রহমান বলেন , এর কারণ আমার উপর নজর রাখছে আমেরিকান এক গুপ্তচর দল। মুকুল হতবাক হয়ে বলে নজর রাখছে? কিন্তু কেন? কারণ, আমি একটি যন্ত্র আবিস্কার করি যার মাধ্যমে কৃত্তিম বৃষ্টি এবং সূর্যের আলো সৃষ্টি করা সম্ভব যার মাধ্যমে কৃষকরা লাভবান হবে এবং দেশের অর্থনীতি সুগঠিত হবে
এটা তো ভাল কাজ তাহলে কেন তারা আপনার ওপর নজর রাখছে? মুকুল বলে। উত্তরে মিঃ রহমান বলে কারণ তারা চায় না যে বাংলাদেশ উন্নতি করুক। তার মাধ্যমে তাদের ব্যবসা নস্ট হয়ে যাবে। এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক দিক দিয়ে এগিয়ে গেলে রাশিয়া তাদের সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে তাদের ক্ষতি হবে।
আচ্ছা, তাহলে আপনি আমাকে কেন ডেকেছেন? মুকুল বলে। উত্তরে রহমান সাহেব বলেন, আমি যে যন্ত্রটি আবিস্কার করেছি সেটি একটি জিনিস ছাড়া অসম্পূর্ণ। সেই জিনিসটি সুরোজিত রায় এর কাছে আছে। তিনি কলকাতা থাকেন। আমি তার সাথে কথা বলতে পেরেছি তিনি বলেন যে, আমেরিকান গুপ্তচররা তার উপরও নজর রাখছে, তিনি বলেন এই পরিস্থিতিতে তিনি যদি জিনিসটি পাঠান তবে সেটি নাও পৌছাতে পারে। তাই তিনি কাউকে পাঠাতে বলেছেন যে, জিনিসটি নিয়ে আমাকে দিবে। তাই আমি তোমাকে ডেকেছি মুকুল। তুমি কি রাজি? মুকুল বলল, অবশ্যই! দেশের জন্য অবদান রাখতে পারা তো গৌরবের ব্যাপার। আমি জীবন দিয়ে চেস্টা করবো সেটা আপনার কাছে পৌছানোর। আমি পরশুই সেখানে রওয়ানা দিবো। ধন্যবাদ মুকুল তুমি তোমার বাবার মতোই সাহসী।
পরশুদিন..
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় মুকুল। পথে কোন ঝামেলা না দেখলেও সে ভারতে পৌছানোর পর থেকে তার পিছনে ২জন মানুষ আসছে। প্রথম ৪ দিন সে হোটেলে থাকে যেনো তাদের মুকুলের ওপর থেকে সন্দেহ কমে । তারপর সে সুরোজিত রায়ের বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে সে কলিংবেল দিলে একজন বৃদ্ধ মানুষ বের হয়ে আসেন। এসে তিনি তাকে বলেন কে তুমি? মুকুল বলল, আমি মুকুল বাংলাদেশ থেকে এসেছি মিঃ রহমান স্যার পাঠিয়েছেন। আচ্ছা আচ্ছা জলদি তুমি
ভিতরে এসো। অনেক কস্ট করে এসেছো, বসো বিশ্রাম নেও। খেয়ে দেয়ে তারপর কথা হবে।
সন্ধ্যায়….
আচ্ছা মুকুল তুমি যে এসেছো আসার পথে তোমার কি কোন অসুবিধা হয়েছে? মুকুল বলে না তবে ২ জন লোক পিছু ছিল। আচ্ছা সেটা কোন ব্যাপার না, তুমি কি চিঠিটা এনেছো মিঃ রহমানের? মুকুল বলে হ্যাঁ এনেছি। মুকুল তাকে চিঠিটা দিলে তিনি চিঠিটা পড়ে বল্রন আচ্ছা ঠিক আছে তবে তোমাকে একটু সাবধানে এবং কায়দা করে বাংলাদেশ যেতে হবে। নাহলে ওরা তোমাকে ধরে ফেলবে এমন কি মেরে ফেলতে পারে। তাই তোমাকে প্রথমে এখান থেকে গুজরাট যেতে হবে তারপর সেখানে একদিন হোটেলে থেকে পরের দিন গুজরাট থেকে আসাম এসে সেখান থেকে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশ যেতে হবে। তারপর ঢাকা যেতে হবে। তোমার সব খরচ আমি দিবো। মুকুল বলল, আচ্ছা তবে জিনিসটা কি আমি জানতে পারি? সুরোজিত স্যার জিনিসটা তাকে দেখান একটি পাথরের মতো ছোট্ট জিনিস
। তিনি বলেন এটিকে তোমার খেলনা গাড়ির ব্যাটারির জায়গায় নিতে হবে
খেলনা গাড়িটি আমি কিনে রেখেছি এই নাও। এটাতে নিলে কেউ বুঝতে পারবে না। আশা করি তুমি সফল হবে। আচ্ছা তুমি ৩দিন থাকো তারপর তুমি গুজরাট রওয়ানা হবে ঠিকাছে?

৩ দিন পর….
মুকুল এদিন ভারতের কলকাতার বিমানবন্দর থেকে গুজরাট রওয়ানা হবে। তাকে বাড়ির দরজা থেকেই বিদায় দেন সুরোজিত স্যার। তারপর৷ মুকুল ভালো মতো গুজরাট পৌছায়। তার পিছনে আর আমেরিকান গুপ্তচররা পিছু নেই নি। তারপর সেখানে ১ দিন থেকে সে আসাম পৌছায়, আর বেনাপোল সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ পৌছায়। এর পরের দিন সে ঢাকায় পৌছায়। ঢাকায় গিয়ে সে ২ দিন আবার হোটেলে থাকে। এবং ছদ্মবেশ ও ছদ্মনাম দিয়ে মিঃ রহমান এর বাড়ি যায়। তবে যেয়ে সে দেখতে পায় যে রহমান স্যার বাড়ি নেই তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তারপর সে একটা ফোন কল পায়, আমেরিকান গুপ্তচর দের কাছ থেকে । সেখানে তাকে বলে যে,
Hey Mukul, did you think that you would easily take the thing from Professor Surjit and deliver it to Mr. Rahman? We are not so stupid we have kidnapped. Ha ha. If you want the professor back, take the thing to Khulna Fultala today and take the professor. Bye
And if you bring the police, we will kill the professor
তাদের কথা শুনে মুকুল ভয় পেয়ে যায়। তারপর সে একটা প্লান করে। সে খুলনার ফুলতলায় যায় এবং সেখানে গিয়ে আমেরিকান গুপ্তচর দের সাথে দেখা করে তারা তার কাছে জিনিস চাইলে সে বলে সে আগে প্রোফেসর কে চায় তারপর তারা প্রোফেসরকে দেখায় একটি ইলেকট্রনিক চেয়ারে যেখানে শক দিল্র প্রফেসর মারা যাবে। তারপর তারা বলে তুমি মাঝে এসে জিনিসটা রাখলে প্রফেসর মুক্ত হয়ে যাবে। রাখো এবার! তারপর মুকুল জিনিসটি রাখার সাথে সাথে চারদিকে ধোয়া ছড়িয়ে গেলো। ধোঁয়ার মধ্যে মুকুল প্রফেসর এবং যন্ত্রটি নিয়ে পালিয়ে গেলো। তারপর তাদের খুজতে আসার আগেই মুকুল তাদের জন্য একটি গ্রেনেড এনেছিল সেটি দিলে তারা সেখানেই মারা যায়। তারপর সে প্রোফেসরকে নিয়ে এসে ঢাকায় আসেন। এবং প্রোফেসর সেই আবিস্কারটি শেষ করে বাংলাদেশ সরকারকে প্রদান করে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধি লাভ করে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার লাভ করে৷ এবং সাহসিকতার জন্য মুকুল আজীবন সম্মাননা পায়। তারপর এই সকল ঘঠনা মুকুল মাসুদ ভাইকে বললে মাসুদ ভাই মুকুলকে বলে আরেব্বাস
। আমার এক চিঠির রহস্য ভেদে এতো কিছু !

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top