এম্বুলেন্স

#গল্পঃ-অ্যাম্বুলেন্স

#পর্বঃ- ১

#প্রমীত

. সময়টা শীতকাল

রাত বারোটা বেজে তেত্রিশ মিনিট। প্রান্ত ও রৌদ্র জনমানবহীন নিস্তব্ধ রাস্তা জুড়ে সজোরে নিজেদের বাইক হাকিয়ে নিজেদের বাড়িতে আসছে।গিয়েছিল তাদেরই এক বেস্টফ্রেন্ড রাফির গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে। স্কুললাইফ থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। একে অপরের প্রান বললেই চলে।আজ তারা বেশি উত্তেজনায় নেশা করে বসেছে। তবুও পাক্কা বাইকার হওয়াতে সুন্দরভাবেই বাইক চালাচ্ছে।

• হঠাৎই প্রান্ত খেয়াল করলো, একটি এম্বুল্যান্স দাড়িয়ে আছে রাস্তার মাঝখানে। আশেপাশে কাওকে দেখা যাচ্ছেই না। প্রান্ত আর রৌদ্র বাইক থেকে নেমে দেখতে গেলো। এম্বুল্যান্স বন্ধ কিন্তু আশেপাশে কেও নেই কেনো? রাস্তার মাঝখানে এভাবে দাড় করিয়ে রাখলে তো যাত্রিদের সমস্যা হবে। হঠাৎ রৌদ্র দেখলো এক মাঝবয়সী মেয়ে এম্বুল্যান্স এর পাশ দিয়ে কোত্থেকে জানি এলো। এতো রাতে এই জনমানবহীন রাস্তায় একজন যুবক পর্যন্ত নেই এই মাঝবয়সী মেয়ে এখানে কি করছে?

• পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে ভেবে সে প্রান্তকে বলল,

:- এই প্রান্ত চল এখান থেকে। এখানে আমাদের থাকা টা ঠিক হবে না। আমরা ভুল সময় ভুল জায়গায় চলে এসেছি।

:-ধুর বেটা কিচ্ছু হবে না। চল মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি কি ব্যাপার আর এম্বুল্যান্সেই বা কি?

:- দেখ ভাই সবখানে সাহসীকতা দেখানো ঠিক না। তুই কিন্তু ইম্প্রেশন জমানোর জন্য একটু বেশিই সাহস দেখাতে চাচ্ছিস এখন দয়া করে এই কাজটা মানে মেয়েটার কাছে যাস না। প্লিজ ভাই😓।

:-ধুর তুই এমনিতেই আমাকে হিংসা করছিস। আমার সাহস তুই সহ্য করতে পারছিস না ।

:-কিহ?😦।তুই আমাকে এই কথা বলতে পারলি?

:-হ্যা পারলাম তুই গেলে যা। আমি মেয়েটার কাছে গিয়ে দেখছি।

:-না আমিও বরং তোর সাথেই যাই।তোর সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।

:-আমাকে দুর্বল ভাবছিস নাকি?🤣🤣
আরে তুই যা পালা এখান থেকে। আর তোর চেহারা দেখতে চাচ্ছিনা।

:-আরে তুই রাগছিস কেন? আমি তো জাস্ট তোর সাথে থাকতে চাচ্ছি।আচ্ছা তুই বুঝতে পারছিস না কেন। এই মেয়ে যদি সাধারণ কোনো মেয়ে হতো তাহলে এখানে দাড়িয়ে থাকার সাহস পেতো না।তাছাড়া মেয়েটার চেহারাওতো দেখা জাচ্ছে না। এই ব্যাপারটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। চল ভাই প্লিজ।

:-তোকে বলেছি না তুই যা।আমি যাবো না।
এই বলে ক্রমাগত মেয়েটার দিকে পা বাড়াচ্ছে যেন কেও মন্ত্র মুগ্ধ করে রেখেছে। পলকহীনভাবে মেয়েটির দিকে তাকিয়েই আছে।
• রৌদ্র আর উপায়ন্তর না পেয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।গিয়েই ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন ভোরে হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো।রিসিভ করতেই
:-হ্যালো আপনি কি রৌদ্র?

:-হ্যা বলছি। এটা তো আমার ববন্ধুর নাম্বার। আপনাকে তো চিনতে পারছি না।

:-আমাকে চিনবেন না আপনার বন্ধু আর নেই। আমি আপনকে লোকেশন পাঠাচ্ছি আসুন আপনি।
সাথে সাথে একটি ধাক্কা খেলো রৌদ্র।ফোনটা পরে গেল ঝট করে হাত থেকে।
কারণ সে ওপাশ থেকে যা শুনলো তা পুর্বেই সে নাগাল পেয়েছে। মা জিজ্ঞেস করাতে বলল
:-আজ সকালে ……

চলবে……………

পরে দয়া করে জানাবেন। 🙏

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top